, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
হালুয়াঘাটে শতাধিক পরিবার পেল ঈদ উপহার অসহায় ৬০ পরিবারের পাশে মরিচপুরান ইউনিভার্সাল ফ্রেন্ডস্ ক্লাব পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ঈদের কেনাকাটা হলো না তাদের মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ উপদেষ্টা বলেছেন ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে, এমনই বিশ্বাস রাখতে চাই: মির্জা আব্বাস নালিতাবাড়ীতে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া ও ইফতার মাহফিল নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের আয়োজনে ইফতার সাংবাদিকদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীর মতবিনিময় আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের টাকায় জমি বন্ধক
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়

‘সুপয়ে পানরি সংকট যেন শেষ হবার নয়’

তৃষ্ণা মেটানোর জন্য খাবার পানি সংগ্রহ করছেন আমেনা খাতুন

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ী ছড়ার বালুর গর্ত থেকে উত্তোলিত পানিতেই জীবন চলে তাঁদের। শুধু তাই নয় তৃষ্ণা মেটানু থেকে গৃহস্থলীর সকল কাজ সারতে হয় এই পানি থেকে।

এমন চিত্র ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তঘেষা ঘোষগাঁও এবং দক্ষিমাইজপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১০-১২ টি গ্রামে।

সম্প্রতি উপজেলার দক্ষিমাইজপাড়া এলাকার গিলাগড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ী ছড়ায় বালু সরিয়ে গর্ত করে পানি সংগ্রহ করছেন  আমেনা খাতুন ও জোসনা বেগম নামে কয়েকজন নারী। এসময় কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। এসময় আমেনা বেগম বলেন, আমার কমড় লইয়া খারাইবার পারি না । কষ্ট কইরা এই ঝর্ণার পানি লইয়া খাইয়া বাঁচুন লাগে সরকার যদি আমাগো একটা ব্যবস্থা করতো তাইলে বিরাট উপকার অইতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে,  দক্ষিমাইজপাড়া ইউনিয়নের গিলগড়া,কাশিপুর, বাকপাড়া,শানখলা, পঞ্চনন্ধপুরসহ কয়েকটি  গ্রাম ও ঘোষগাও গোলইভাংগা, চন্দকোনা এলাকা পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় টিউবওয়েল বসানো যায় না।  এসব এলাকায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর শুকনো মৌসুমে পুকুর বা পাহাড়ি ছড়ার পানি খেতে হয়। এতে পেটের অসুখ, চর্ম রোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ওই গ্রামগুলোতে দিন আনে দিন খায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় তাদের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব নয়। গ্রামে দু-একজন অধিক অর্থ ব্যয় করে সাবমারসিবল বসালেও বেশিরভাগ মানুষের ভাগ্যে জুটছে না বিশুদ্ধ পানি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিমাইজপাড়া ইউনিয়ন  হচ্ছে উপজেলার মেঘালয় সীমান্তঘেষা। এই সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এই এলাকাগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টিসহ সব মানুষের বসবাস। পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় নূলকুপের পাইপ মাটির গভীরে নেওয়া সম্ভব হয়না। ৫০-৬০ মিটার গভীরে গেলেই পাইপ আটকে যায় পাথরে। তাই গভীরনূলকুপ বসানো কষ্টসাথ্য। যারা নিজ উদ্যোগে অগভীর নলকূপ বসিয়েছে তা শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকেনা।

আদিবাসী নারী ইতি চিসিম এসময় পানি সংগ্রহ করতে  এসে বলেন তার বাড়িতে নলকূপ না থাকায় পানির জন্য সারা বছরই কষ্ট করতে হয়। তিনি বলেন, আমরার কল (টিউবওয়েল) নাই। আমরা অনেক আগে থাইকা পাহাড়ের ঝরনার যে ছড়ার পানি আছে ওইডাই খাই। রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করি। খালি আমি না। সবারই এই অবস্থা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর শুকনো মৌসুমে ঝর্ণার পানি ভরসা ।

ঘোষগাঁও এর গোলই ভাঙ্গা সীমান্ত  এলাকার আমির উদ্দিন বলেন, বাবারে আমরা শুষ্ক মৌসুমে হিসাব করে পানি পান করি। টিউবওয়েলে পানি উঠেনা। পুকুর আর ছড়াই আমাদের ভরসা।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, আমার চেয়ারম্যান হওয়ার তিন বছরে সীমান্ত এলাকায় ১০ টি গভীর নলকূপ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ওই এলাকার কেউ আবেদন করেন নাই। যদি কেউ করে বিকল্প পদ্ধতিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের  প্রকৌশলী শফিউল আজম বলেন, সীমান্ত এলাকায় দুটি নলকূপ দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় নলকূপ বসানো সম্ভব হয়না। এবার নতুন প্রকল্প সব প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত শারমিন বলেন, পাহাড়ি এলাকায় পাথরের কারণে গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব হয় না। পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করতে চাচ্ছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।  ওই গ্রামগুলোয় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

জনপ্রিয়

হালুয়াঘাটে শতাধিক পরিবার পেল ঈদ উপহার

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায়

‘সুপয়ে পানরি সংকট যেন শেষ হবার নয়’

প্রকাশের সময় : ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫

বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ী ছড়ার বালুর গর্ত থেকে উত্তোলিত পানিতেই জীবন চলে তাঁদের। শুধু তাই নয় তৃষ্ণা মেটানু থেকে গৃহস্থলীর সকল কাজ সারতে হয় এই পানি থেকে।

এমন চিত্র ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তঘেষা ঘোষগাঁও এবং দক্ষিমাইজপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১০-১২ টি গ্রামে।

সম্প্রতি উপজেলার দক্ষিমাইজপাড়া এলাকার গিলাগড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ী ছড়ায় বালু সরিয়ে গর্ত করে পানি সংগ্রহ করছেন  আমেনা খাতুন ও জোসনা বেগম নামে কয়েকজন নারী। এসময় কথা হয় এই প্রতিবেদকের সাথে। এসময় আমেনা বেগম বলেন, আমার কমড় লইয়া খারাইবার পারি না । কষ্ট কইরা এই ঝর্ণার পানি লইয়া খাইয়া বাঁচুন লাগে সরকার যদি আমাগো একটা ব্যবস্থা করতো তাইলে বিরাট উপকার অইতো।

সরেজমিনে দেখা গেছে,  দক্ষিমাইজপাড়া ইউনিয়নের গিলগড়া,কাশিপুর, বাকপাড়া,শানখলা, পঞ্চনন্ধপুরসহ কয়েকটি  গ্রাম ও ঘোষগাও গোলইভাংগা, চন্দকোনা এলাকা পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় টিউবওয়েল বসানো যায় না।  এসব এলাকায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর শুকনো মৌসুমে পুকুর বা পাহাড়ি ছড়ার পানি খেতে হয়। এতে পেটের অসুখ, চর্ম রোগসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। ওই গ্রামগুলোতে দিন আনে দিন খায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় তাদের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব নয়। গ্রামে দু-একজন অধিক অর্থ ব্যয় করে সাবমারসিবল বসালেও বেশিরভাগ মানুষের ভাগ্যে জুটছে না বিশুদ্ধ পানি।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিমাইজপাড়া ইউনিয়ন  হচ্ছে উপজেলার মেঘালয় সীমান্তঘেষা। এই সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এই এলাকাগুলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টিসহ সব মানুষের বসবাস। পাহাড়ী এলাকা হওয়ায় নূলকুপের পাইপ মাটির গভীরে নেওয়া সম্ভব হয়না। ৫০-৬০ মিটার গভীরে গেলেই পাইপ আটকে যায় পাথরে। তাই গভীরনূলকুপ বসানো কষ্টসাথ্য। যারা নিজ উদ্যোগে অগভীর নলকূপ বসিয়েছে তা শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকেনা।

আদিবাসী নারী ইতি চিসিম এসময় পানি সংগ্রহ করতে  এসে বলেন তার বাড়িতে নলকূপ না থাকায় পানির জন্য সারা বছরই কষ্ট করতে হয়। তিনি বলেন, আমরার কল (টিউবওয়েল) নাই। আমরা অনেক আগে থাইকা পাহাড়ের ঝরনার যে ছড়ার পানি আছে ওইডাই খাই। রান্নাবান্নাসহ সব কাজ করি। খালি আমি না। সবারই এই অবস্থা। বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি আর শুকনো মৌসুমে ঝর্ণার পানি ভরসা ।

ঘোষগাঁও এর গোলই ভাঙ্গা সীমান্ত  এলাকার আমির উদ্দিন বলেন, বাবারে আমরা শুষ্ক মৌসুমে হিসাব করে পানি পান করি। টিউবওয়েলে পানি উঠেনা। পুকুর আর ছড়াই আমাদের ভরসা।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, আমার চেয়ারম্যান হওয়ার তিন বছরে সীমান্ত এলাকায় ১০ টি গভীর নলকূপ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ওই এলাকার কেউ আবেদন করেন নাই। যদি কেউ করে বিকল্প পদ্ধতিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হবে।

এ ব্যাপারে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের  প্রকৌশলী শফিউল আজম বলেন, সীমান্ত এলাকায় দুটি নলকূপ দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় নলকূপ বসানো সম্ভব হয়না। এবার নতুন প্রকল্প সব প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত শারমিন বলেন, পাহাড়ি এলাকায় পাথরের কারণে গভীর নলকূপ বসানো সম্ভব হয় না। পাহাড়ি এলাকায় পানি সংকট নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করতে চাচ্ছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।  ওই গ্রামগুলোয় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন।